Corona Virus Effect Talk


Corona Virus Effect Talk:


করোনা জীবন যাপনের উপর কিরকম ভয়ানক প্রভাব ফেলেছে সেটা আপনারা যারা এখনো ট্রল করছেন,সচেতন হচ্ছেন না তাদের বলি। দেশে পরিস্থিতি এখনো এতো খারাপ হয়নি,খারাপ হলে আমাদের থেকেও ভয়াবহ অবস্থা হবে আপনাদের।
আমাদের নিজস্ব বিজনেস আছে। এই বিজনেস এখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। সবজি পাচ্ছি না বাজারে। টমেটো অনেকগুলো দোকান ঘুরেও কোথাও পাইনি। রান্না করতে গেলে তেল থেকে শুরু করে অন্যান্য জিনিসপত্র খুব কম ব্যবহার করছি যেনো দ্রুত শেষ না হয়। অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসই পাচ্ছি না তবুও কোনোভাবে চালিয়ে নিচ্ছি। সেই সাথে নিজেদের জন্য না যতোটা চিন্তা হয় তার চেয়ে বাচ্চাদের জন্য চিন্তায় দম বন্ধ হয়ে আসে। এই যদি হয় আমাদের পরিস্থিতি তাহলে আপনাদের কি হবে?
এখনো সময় আছে ঘরে থাকুন আপনারা। জিনিসপত্র বেশি করে কিনে সংকট সৃষ্টি করবেন না। সবাই যেনো একসাথে বাঁচতে পারেন সেই সহযোগীতা করুন।
দেশে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করার আগে সরকারকে অবশ্যই জনগণকে এই বলে আশ্বস্ত করতে হবে যে আমি আপনাদের চিকিৎসা থেকে শুরু করে জীবনযাপনের সব দায়িত্ব নিলাম। দেশের অধিকাংশ মানুষই দিন আনে দিন খায়। তারা কি করবে? অনেকেরই থাকার ঘর নেই,ফুটপাতে ঘুমায় তাদের কি হবে?
চিকিৎসার জন্য কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন সেটা জনগণকে জানাতে হবে। সরকারি,বেসরকারি সব হাসপাতালকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে করোনা মোকাবেলার প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
পুলিশ নামাতে হবে রাস্তায় জনগণ যাতে ঘর থেকে বের না হয় সেজন্য।
জরুরী অবস্থা ঘোষণার প্রস্তুতি যে নেয়া হচ্ছে এই বিষয়গুলো কি ভাবা হচ্ছে?
জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছি। রাস্তাঘাটে মাঝে মাঝে দুএকজন মানুষের দেখা মিলে। যে প্যারিস কর্ম ব্যস্ততায় মুখর থাকতো সেই প্যারিস আজ স্থবির,শোকাচ্ছন্ন। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া একদম নিষিদ্ধ। প্রয়োজনে এটেস্টেশন নিয়ে বের হতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ৩৮-১৩৫ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। রাস্তাঘাটে অতিরিক্ত পুলিশ নামানো হয়েছে শুধু লোকজন যেনো ঘর থেকে বের হতে না পারে সেজন্য।
সরকার জনগণের জীবন বাঁচানোর জন্য সব উদ্যোগই নিয়েছে। শুধু বারবার জনগণকে একটা কথাই বলতেছে-আপনারা ঘরে থাকুন। বাকিসব কি করতে হবে আমার দায়িত্ব।
মার সাথে এখন ইচ্ছে করে কথা বলি না। মা আমাদের নিয়ে টেনশন করে আর আমাদের চিন্তা হয় মাকে নিয়ে। কথা প্রসঙ্গে দুইদিন আগে মা আমাদের নিয়ে টেনশন করায় বলেছিলাম,মা আমাদের কিছু হবে না। করোনাতে বয়স্ক মানুষই বেশি মারা যায় আর যাদের আগে থেকে অসুস্থতা আছে তারা। পরক্ষণেই মনে হলো,মাকে আমি এইসব কি বলছি! কথার প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে বললাম,আরে কারোরই কিছু হবে না।
সবার প্রিয়জনের জীবনের মূল্য সবার কাছে আছে। সরকার আপনাদের স্কুল কলেজ বন্ধ দিয়েছে আর আপনারা খুশিতে এখন ট্যুর দিচ্ছেন বিভিন্ন জায়গায়।
আপনারা মসজিদ,মন্দির,তাবলিগ,ওয়াজ,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিছুই বন্ধ রাখতে চাইছেন না।
শুধুমাত্র সরকারের দোষ আর আপনারা কি করেন?
এখনো করোনার ভয়াবহতা নিয়ে আপনারা সামান্যও বুঝতে পারছেন না। চিকিৎসা থেকে শুরু করে জীবনের উপর কেমন প্রভাব ফেলবে এই ভয়াবহতা নিয়ে আপনাদের কোনো ধারণাই এখনো হয়নি।
মুভি দেখছিলাম। মন বসাতে পারছি না। কেমন যেনো অস্থির লাগে। প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রন জাতির উদ্দেশ্য ভাষণ দিলেন রাত আটটার সময়। ১৫ দিনের জন্য সব লক ডাউন করে দেয়া হয়েছে। শুধুমাত্র ফার্মেসী আর সুপার মার্কেট খোলা রাখা হয়েছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে একদম বের হতে মানা করেছেন। মানুষের এক মাসের ঘর ভাড়া থেকে শুরু করে এক মাসের স্যালারি দেয়ার দায়িত্ব নিয়েছেন। গ্যাস,বিদ্যুৎ,পানির বিল বহন করবেন।
মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য যা যা দরকার সবই তিনি করবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
তিনি বার বার বলেছেন,আমরা এখন যুদ্ধের মধ্যে আছি। সবার সহযোগীতা প্রয়োজন।
ফ্রান্সে আজ করোনার রোগী ৬৬৩৩ জন। শুধুমাত্র আজই ১০০০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছে। এই পর্যন্ত ১৪৮ জন্য মারা গেছে। কবে এই দূর্যোগ কাটিয়ে উঠবে বিশ্ব,এই প্রশ্নের উত্তর ভাবলে মাথা আর কাজ করে না।
প্যারিস হলো আমার দ্বীতিয় জন্মভূমি। তারুণ্যের শুরু যে শহর থেকে সেই শহরের এমন অসহায় অবস্থা আমি আর দেখিনি। ভালো লাগছে না কিছুই। ভালোবাসার প্যারিস,শীঘ্রই আগের মতো ঝলমলে হয়ে উঠো,ভালো লাগছে না এভাবে তোমাকে দেখতে।


অবহেলা করবেন না, সচেতন হোন।


লেখকঃ
Corona Virus Effect Talk


Post a Comment

Previous Post Next Post